‘করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক •

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ খুব সন্নিকটে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ভর করেছে আগেই। সরকার থেকে শুরু করে সব মহলেই করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে চলছে নানা আলোচনা। তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সকালে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের ‘করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এমন পরামর্শ দিয়েছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা লকডাউন করেছি। মানুষ যাতে সেটা মানে সে চেষ্টা করা হয়েছে।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের স্কোরটা কিন্তু বেশি না। তারপরেও দেখা গেছে, আমাদের দেশের লোকেরা যতটুকু মেনেছে, পৃথিবীর খুব কম দেশেই লকডাউন বা সরকারি সিদ্ধান্তগুলো মানতে রাজি হয়েছে।
মহামারির মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মকে নগণ্য মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ৬২ হাজার জনপ্রতিনিধির মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম অনিয়মে জড়িত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশ্যালাইজড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান এমএইচ চৌধুরী লেনিন বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি টেস্টের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি হয়নি। একই সময়ে আমরা একধরনের দ্বৈত ব্যাপার দেখি। অ্যান্টিবডি টেস্ট আইন অনুমোদিত নয়। কিন্তু আইসিডিডিআর,বি’ এবং আইইডিসিআর অ্যান্টিবডি টেস্ট করে একটি সার্ভে করার চেষ্টা করেছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকার ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত। দু’দিন পর আইইডিসিআর বলেছে এটি যথাযথ নয়। বিষয়টা কী বিজ্ঞানভিত্তিক না অনুমানভিত্তিক? এই ধোঁয়াশা থেকে মানুষকে বের করে আনতে হবে। এমএইচ চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞানের কাজগুলো বিজ্ঞান দিয়ে করতে হবে। চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানি বাংলাদেশে ট্রায়াল করতে চাইলো। আমাদের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল যথাযথভাবেই অনুমতি দিলো। কিন্তু আমাদের মন্ত্রী এবং সচিব একবাক্যে সেটি উড়িয়ে দিলেন। কেন উড়িয়ে দিলেন? আমি যদ্দূর জানি কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ ছিল না। কী ছিল, তারা জানেন।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু আবার যখন কয়েক সপ্তাহ পরে তারা এটা করতে চাইলেন চীন তখন খরচ চালানোর জন্য টাকা চেয়ে বসলো। তাদের এই আমলাতান্ত্রিক ইগো থেকে উদ্ভূত যে সিদ্ধান্ত তার থেকে দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে ভুগতে হয়। দ্বিতীয় ঢেউতে যেন বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথম রোগী পাওয়া গেল ৮ই মার্চ। এপ্রিলে সংক্রমণ হার হলো ১০ শতাংশ। ৩১ মেতে ২০ শতাংশ ঠেকলো। ২০শে আগস্টে ২০-এর ঘরে থাকলো। ২১শে আগস্টে ১৮- এর ঘরে নামলো। অনেকেই প্রশ্ন করে পিক কবে হলো? আমাদের দেশে পিক হয়েছে ৩১শে মে থেকে ২০শে আগস্ট পর্যন্ত। এখান থেকে যখন নামলো এখনো নামা শেষ হয়নি। ১০ শতাংশের ঘরে আছে। এখন যদি আস্তে আস্তে বাড়া শুরু করে তখন আমরা বলবো দ্বিতীয় ঢেউ আসলো। দ্বিতীয় ঢেউ এখনো আসেনি। প্রথম ঢেউ কন্টিনিউ করছে। দ্বিতীয় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি। নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের, জনগণের প্রস্তুতি লাগবে। যদি দ্বিতীয় ঢেউ আসে, আসলে বোঝা যাবে। এই ভাইরাসের বয়স এক বছর হয়নি। শীতকালে কেমন ব্যবহার করে আমরা জানি না। অনেক কিছু জানতে পারবো। ভাইরাসের চরিত্র নিয়ে অনেক বুঝতে পারবো। শীতকালে আমরা এর ব্যবহার বুঝতে পারবো।