খালি হাতে আসা রোহিঙ্গাদের অস্ত্রের উৎস কী, চলছে গ্রুপের নামে চাঁদাবাজি

ইমরান আল মাহমুদ, কক্সবাজার জার্নাল :


বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ অপকর্মে। আশ্রয় নেওয়ার পাঁচ বছরে অশান্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পের পরিস্থিতি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় অশান্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পের পরিবেশ। একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। প্রত্যাবাসন নিয়ে যখনই আলোচনা হয় এরপরই শুরু হয় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। যার নেপথ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি দুষ্কৃতকারী গ্রুপ।

সাধারণ রোহিঙ্গাদের মতে,উখিয়ার ২৬টি ক্যাম্পে আরসা,নবী হোসেন, মাস্টার মুন্না বাহিনী গ্রুপ দাপিয়ে বেড়ায় সুযোগ নিয়ে। তবে স্বেচ্ছায় পাহারা ব্যবস্থার কারণে দুষ্কৃতকারীরা বেকায়দায় পড়ে গেছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে, পাঁচ বছর আগে খালি হাতে আসা রোহিঙ্গাদের বিশাল একটা অংশের হাতে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আতঙ্কে সাধারণ রোহিঙ্গারা। মিলছে বিদেশি অস্ত্রও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্প-৯ এর কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়, মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার কথা সংবাদ মাধ্যমে বললে রাতে একটি গ্রুপ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা হুমকি প্রদান করে। তবে এসব গ্রুপ প্রকাশ্যে কাজ করার সাহস পায়না বলে জানায় তারা।

  • ১০ দিনের ব্যবধানে চার খুন!
    গত ৯ জুন ক্যাম্প-১৮ তে রোহিঙ্গা মাঝি আজিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতারও করে এপিবিএন এর দুই ব্যাটালিয়ন। ৪জন এজাহারনামীয় আসামী ৮ এপিবিএন ও অপর ১জন ১৪ এপিবিএন এর হাতে গ্রেফতার হয়। পরের দিন ১০জুন ক্যাম্প-৪ এ হত্যা করা হয় মো. সমীনকে। হত্যার পর এজাহারের উল্লেখ করা ৫জন ও ১জন সন্দিগ্ধ আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ১৪ এপিবিএন।

পাঁচদিন পর আবারও ঘটে হত্যার ঘটনা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্প-২ তে হত্যা করা হয় মো. সেলিমকে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ৬ জন ও সন্দিগ্ধ ৩জনকে গ্রেফতার করে ১৪ এপিবিএন সদস্যরা। সেলিম হত্যার সাতদিন পর ক্যাম্প-১৭ তে হত্যা করা হয় মোহাম্মদ শাহ কে। আবারও অস্থির হয়ে উঠে ক্যাম্প। মোহাম্মদ শাহ কে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে এপিবিএন সদস্যরা।

ক্যাম্পে দুষ্কৃতকারীদের আধিপত্য বিস্তার!
ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও হত্যা আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটছে বলে জানায় এপিবিএন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায়ই ঘটনা ঘটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে।

  • সম্প্রতি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৮ এপিবিএন কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভলান্টিয়ার কার্যক্রম চালুর পর থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার কারণে দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ কার্যক্রম করতে না পেরে স্বেচ্ছায় পাহারা ব্যবস্থা ব্যাহত করতে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ৮ এপিবিএন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানায়,ক্যাম্পে কোনো বাহিনী নেই। কয়েকজন দুষ্কৃতকারী নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এদিকে,ক্যাম্পের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন,তারা (রোহিঙ্গারা) দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন দুটি গ্রুপ কাজ করছে। একটি প্রত্যাবাসনের পক্ষে অন্যটি প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে। প্রত্যাবাসনের বিপক্ষের দলটির হাতেই অস্ত্র। তাই প্রতিদিন প্রত্যাবাসনের পক্ষের দলনেতা খুন হচ্ছে। নিরিহ মানে বেশীরভাগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে বটে কিন্তু তারা দূর্বল। কারন প্রত্যাবাসনের বিরোধিতাকারীদের হাতে অস্ত্র।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. নাইমুল হক জানান,ক্যাম্পে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৪ এপিবিএন এর আওতাধীন ১৫টি ক্যাম্পের কোথাও সন্ত্রাসীদের আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুষ্কৃতকারীরা যতই শক্তি প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন না কেনো কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। তবে অধিকাংশ ঘটনা ঘটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটে বলে জানান তিনি।