ছাত্রদলের উপর হামলা করে ছাত্রদলের নামেই মামলা!

কক্সবাজার জার্নাল ডেস্ক:
ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে ছাত্রলীগ। এতে অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আবার হয়রানি করতে নেতাকর্মীদের নামেই মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন ছাত্রদল নেতারা।

শনিবার (২৮ মে) ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগ নেতার মামলার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন ছাত্রদল নেতারা। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ২৪ মে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ ১৮ নেতা ও অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেছে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ছাড়াও মামলার ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, ঢাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।

মামলার বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা মধুর ক্যান্টিন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে শহীদুলাহ হলে ফিরছিলাম। এ সময় দোয়েল চত্বরে কার্জন হলের সামনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করতে থাকে। এ ঘটনায় শহীদুল্লাহ হলের আট শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিজ হলে বিশ্রামে আছেন।

আহতদের হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র ও এক্সরে রিপোর্টসহ যাবতীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহের জন্য মামলা করতে দেরি হয়েছে।

তবে ছাত্রদল নেতারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করতে নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে ছাত্রলীগ। একইভাবে ৩০০-৪০০ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত মামলা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অথচ ছাত্রলীগের নৃশংস হামলায় দুই দিনে অন্তত ১০০ ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসাজশে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে। আবার তারাই মামলা দিয়েছে এটা হাস্যকর। আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। ২৪ ও ২৬ মে শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হামলা চালিয়েছে। এখনো আমাদের ৮ নেতাকর্মী আইসিইউতে এবং প্রায় ৭০ নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এ মামলা দ্বারা প্রমাণিত হয় দেশে আইনের শাসন নেই। বিরোধীদলকে দমন করাই হচ্ছে আইন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগকে মদদ দিচ্ছে, একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরাসরি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতা করছে।

ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আখতার হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসাজশে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তারা মামলা করেছে। আপনারা দেখেছেন, ছাত্রলীগ নেতারা হকিস্টিক, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদে লর নেতাকর্মীদের হয়রানির জন্য ছাত্রলীগ এখন মামলা দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই ।

এদিকে ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ছাত্রদল তার পুরনো ইতিহাসের মতো ফের ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করতে চাইছে। যেভাবে তারা অতীতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এখনো তারা সেটাই করছে। এরই অংশ হিসেবে মিছিলের নামে মহড়া দিচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে শান্তিপূর্ণ রাখতে রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি আমরা ছাত্রলীগ।