বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে পৌনে দুই লাখ ইয়াবা, মিয়ানমারের ৬ নাগরিক আটক

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, কক্সবাজার জার্নাল •


সাগরে মাছ শিকার করার আড়ালে মাদক পাচার এখনো অব্যাহত। কিছুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
কারন মাদক পাচারে জড়িত অপরাধীরা তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখার জন্য ভিবিন্ন কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে।

এদিকে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে জলে, স্থলে কর্তব্যরত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপ সংলগ্ন সাগরে কোস্টগার্ড ও ডিএনসি সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বস্তাভর্তী ১লাখ ৭০হাজার ইয়াবার চালানসহ ৬ রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে।

উক্ত অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য ১৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ কোস্টগার্ড টেকনাফ ষ্টেশন শাখার কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিং’এর আয়োজন করা হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মিদের কোস্টগার্ড ও ডিএনসির দায়িত্বরত দুই কর্মকর্তা উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে অভিযানিক দল জানতে পারে মিয়ানমার থেকে ট্রলারযোগে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করবে।

সেই তথ্য অনুযায়ি (মঙ্গলবার) ভোররাত তিনটার দিকে টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন শাখায় কর্মরত লে: কমান্ডার মো. আশিক আহাম্মদ (ট্যাজি) বিএন এবং টেকনাফ ডিএনসি অফিসের কর্মরত সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা মুকুলের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড ও ডিএনসির চৌকষ সদস্যরা প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিন-পূর্বে সাগরে অবস্থান নেয়।

এরপর মিয়ানমার থেকে আসা একটি ফিশিং ট্রলার অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করার সময় ট্রলারটিকে দাঁড়ানোর জন্য সংকেত দিলে ট্রলারে থাকা পাচারকারীরা পুনরায় মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযানি দল বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে অবশেষে ট্রলারটিকে নিজেদের আওতায় নিয়ে এসে তল্লাশী করে বস্তাভর্তী ১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করার পাশাপাশি ট্রলারে থাকা ৬ রোহিঙ্গা নাগরিককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ধৃত মাদক পাচারকারীরা হচ্ছে, মিয়ানমার আকিয়াব জেলার ঘাটিয়াখালী থানার এলাকার দিল মোহাম্মদ মাঝিপাড়া প্রকাশ নাপং মাস্টার এলাকার মৃত নুর আহমদ’র পুত্র কেফায়েত উল্লাহ (২২), ক্যাম্প পাড়ার তোবারক মাঝি এলাকার মৃত আব্দুল গাফ্ফারের পুত্র মো.শরিফ (২৭), মোহাম্মদ হোছন মাঝি মিজ্জি-২ এলাকার এর বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের পুত্র মোঃ হোছন (৩৮), ক্যাম্পপাড়া তোবারক মাঝিপাড়া এলাকার মৃত হারদ’র পুত্র ছৈয়দুর রহমান (৪৩), আলছান মাঝি এলাকার মৃত রশিদ আহমদের পুত্র মোঃ হোছন (২৭) এবং ক্যাম্পপাড়া তবারক হোছন মাঝি এলাকার নুর কবিরের পুত্র নুর হোসেন (২১)।

যৌথ সংবাদ ব্রিফিং’এ টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ইয়াবার চালানসহ আটক ৬ পাচারকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করার পর পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।