উখিয়ায় নির্বাচনী আমেজ ঝিমিয়ে পড়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :

আগামী ২৪শে মার্চ উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী ও ভোটার সমর্থকদের মাঝে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশ কর্মী সমর্থকদের মাঝে সৃষ্টি হওয়ার কথা। নির্বাচনকে ঘিরে অবিরত মাইকিং, প্রচার-প্রচারনায় ভোটারদের কান জ্বালাপালা হওয়ার চিরাচরিত নিয়ম এখন আর চোখে পড়ছে না।

মাঝে মধ্যে ২/৩টি মাইকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারনা দেখা গেলেও গণসংযোগ পথসভা, পোষ্টারিং চোখে পড়ার মত না।

ভোটারদের দাবি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় উপজেলা চেয়ার নির্বাচিত হওয়ার কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে উখিয়ার নির্বাচনী আমেজ। ভোটের দিন অবশিষ্ট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা কেন্দ্রে যায় কিনা তা নিয়েও অনেকে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা গেছে। যদিও বা রিটানিং অফিসার বলছেন উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন। ভোট দেবেন পছন্দের প্রার্থীকে।

উপজেলা রিটানিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিলের তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরি, মাহমুদুল হক চৌধুরী, আবুল মনসুর চৌধুরী ও ইমরুল কায়েস চৌধুরী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ডভোকেট মো. রাসেল, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ চৌধুরী, নুরুল হুদা, অধ্যাপক এম.আর. জাহান চৌধুরী রুহুল আমিন মেম্বার (প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন)। মাহবুবুল আলম মাহবু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে খাইরুন্নেছা বেবি ও শাহীনা আকতার তাদের মনোনয় পত্র দাখিল করে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামায় উপজেলার নির্বাচনী অঙ্গনে দেখা দিয়েছিল প্রাণ চাঞ্চল্য। হোটেল, রেস্টুরেন্ট বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা ব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা গেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ই মার্চ সোনারপাড়া রিসোর্ট সেন্টারে অনাকাঙ্খিতভাবে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত কাউন্সিলরদের স্বতস্ফুর্ত সর্মথন অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ ছিল না। তারা বলেন বর্ধিত সভায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কার্যকরী পরিষদের সিনিয়র সভাপতি আলাউদ্দিন চৌধুরী স্ব-ইচ্ছায় তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছে। পাশাপাশি মাহমুদুল হক চৌধুরী ও ইমরুল কায়েস চৌধুরী তাদের প্রার্থীতা নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে ও সংঘঠনের বৃহৎ স্বার্থে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং নির্ধারিত সময়ে প্রত্যাহার করেন নেন, ফলে অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বেসরকারিভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আর কোন বাধা রইল না।

সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানিয়ে। যারা ত্যাগ করেছেন তাদেরকে দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা গেছে। রত্মাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমীর মাহমুদ জানান, হামিদুল হক চৌদুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে উখিয়ার আড়াই লক্ষ মানুষ একজন নিরলস, নিস্বার্থবান অভিভাবক পেয়েছেন। তবে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী হাওয়ায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে যেই উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছিল তা মুহুত্তে ঝিমিয়ে পড়েছে। নির্বাচনী মাঠে ৫জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে গেলেও তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই বলে অনেক ভোটার মন্তব্য করে বলেন, হামিদুল হক চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে উখিয়ার সার্বিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে পারে। তবে উপজেলা নির্বাচনের উৎসব মূখর পরিবেশ থেকে ভোটাররা বঞ্চিত হয়েছে বলে ভোটাররা দাবি করেন। 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, আল্লাহর ইচ্ছা, মানুষের দোয়ার উপর নির্ভর করে জনপ্রতিনিধিত্ব। তিনি বলেন, শত প্রতিকুলতা, বাধা-বিঘ্ন ও বিভিন্ন প্রকার ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আমাকে আমার উপর যে দায়ভার অর্পিত হয়েছে তা যেন আমি মৃত্যুকাল পর্যন্ত পালন করতে পারি তার জন্য আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।