সৈকত পাড়ায় ফয়েজ’র নেতৃত্বে ইয়াবা সিন্ডিকেট বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের কলাতলী দক্ষিণ সৈকত পাড়ায় ফয়েজ আহম্মদের নেতৃত্বে ইয়াবা সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকায় তার নেতৃত্বে নানা পেশার লোকজন অধিক লাভের আশায় এ পেশায় ঝুকছে। ছাত্র, যুবক, চাকরীজিবী থেকে শুর করে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছে মরন নেশা ইয়াবা ব্যবাসায়। এই ব্যবসা করে তারা নতুন নতুন টানা পালসার হাকিয়ে দিব্যি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অল্প দিনেই জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়ে এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজারের কলাতলী দক্ষিণ সৈকত পাড়ায় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি একই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার করে আসছে। তার সিন্ডিকেটের মধ্যে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একই এলাকার, আব্দু রশিদ, আব্দুল মালেক ও মোহাম্মদ জাবের। তারা উভয়ে দক্ষিণ সৈকত পাড়া খানেকা মসজিদের সামনে মো. ইউনুছের মালিকাধীন গণপুর্তের ফ্লটে বসবাস করে। আব্দু রশিদ ও আব্দুল মালেক ৫/৬ মাস আগে ইয়াবা নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হয়। পরে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের ইয়াবা ও গাজা ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এছাড়াও ক্যাম্প থেকে রোঙ্গিাদের নিয়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। ওই এলাকায় আরও অনেকেই ইয়াবার সাথে জড়িত রয়েছে। এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা এমন অভিযোগও লোকে-মুখে শুনা যায়। এছাড়াও তিনি রোঙ্গিাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় সহ তাদের পাসপোর্ট করার সহযোগিতা করেন করেন ফয়েজ আহমদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে এসব ব্যবসায়ীরা। তারা দেদারচে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। সূত্রে জানায় তাদের কাছে এলাকার জন প্রতিনিধিরাও সময়ে অসহায় হয়ে পড়ে। এলাকার ছাত্র যুবক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, তাদের বেপরোয়া ইয়াবা ব্যবসার কারণে মাগরিবের পরে থেকে রাস্তা ঘাটে হাটার কোন পরিবেশ থাকে না। এমনকি অনেকেই এসব ইয়াবা ও গাজা খেয়ে মাতলামি শুরু করে দেয়। অধিক লাবের আসায় বর্তমানে মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে অনেকেই। নতুন নতুন টানা গাড়ি হাঁকিয়ে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে মরণ ঘাতক ইয়াবা ও চোরাচালানীর সাথে জড়িয়ে পড়লেও আইন শৃংখলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় বেপরোয়া হয়ে দিনের পর দিন ইয়াবার চালান পাচার করে আসছে এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। অথচ পুলিশ তাদের অপকর্মের বিষয়ে নিরব ভুমিকা পালন করেছে। তাদের ইয়াবা ব্যবসার পরিধি শুধু কক্সবাজার নয়, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাহ, ফেনীসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাদের সিন্ডিকেট রয়েছে।

তারা কক্সবাজারের বাসিন্দা হওয়ায় কিভাবে কৌশলে ইয়াবা পাচার করতে হয় তা ভালোভাবে জানা আছে। এমনকি তাদের সাথে কক্সবাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ইয়াবা গডফাদারের সাথে আতাঁত রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

সিন্ডিকেটের কতিপয় ক জন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বয়সে ছোটখাট ব্যবসা করাটাই স্বাভাবিক। বৈধ কি না জানতে চাইলে উল্টো অবৈধ হলে কি করবে বলে প্রশ্ন তুলেন তারা। তারা আরো জানান, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার জন্য এ ব্যবসা সেরা। সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, এসব মরণ নেশা অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত সিন্ডিকেট প্রধান ফয়েজ আহমদের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আমি কোন ধরণের ইয়াবা সাথে জড়িত নেই। আব্দুল মালেক ও আব্দু রশিদ এই ইয়াবায় জড়িত বলে প্রতিনিয়তেই তাদেরকে বাধা দিয়ে থাকি। তারপরেও তারা বাধা অমান্য এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক করার জন্য প্রশাসন সর্বদা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ইয়াব ব্যবসায়ী যতো বড়ই প্রভাবশালী হউক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।