কক্সবাজারে গভীর রাতে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা

সোয়েব সাঈদ, কক্সবাজার জার্নাল ডটকম :

কক্সবাজারের রামুতে স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৯ জুন) ভোরে ঈদগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপরের খিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড উপরের খিল এলাকার কামাল হোসেনের মেয়ে রুবি আক্তার (১৯) ও তার স্বামী নুর মোহাম্মদ (২৮)। নুর মোহাম্মদ চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা।

নিহত রুবি আকতারের মা আমিনা খাতুন জানিয়েছেন- মঙ্গলবার, দিবাগত রাত ২ টায় স্থানীয় আবদুর রশিদের ছেলে রমজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাড়িতে প্রবেশ করে এবং রান্না ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তার মেয়ে রুবি আকতার ও জামাতা নুর মোহাম্মদকে ধারলো দা দিয়ে জবাই করে হত্যা করে।

রুবি আকতারের পিতা কামাল হোসেন জানান- ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, আলোচিত শহীদ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী রমজান বিয়ের আগে তার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। তার সাথে মেয়ের বিয়ে না দেয়ায় সে ইতিপূর্বে তাদের দেখে নেয়ার হুমকীও দিয়েছিলো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল আমিন জানিয়েছেন, ৩ মাস পূর্বে রুবি আকতারের সাথে নুর মোহাম্মদের বিয়ে হয়। হত্যাকান্ডের শিকার নুর মোহাম্মদ পেশায় দিনমজুর। বিয়ের পর থেকে রুবি আকতার স্বামীকে নিয়ে তার নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলো। ইতিপূর্বে রুবি আকাতারের মায়ের সাথে তার পিতার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এ কারণে মা আমিনা খাতুন মেয়ে রুবি আকতারকে নিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে মায়ের (রুবির নানী) সাথে বসবাস করে আসছিলো। ঘটনার সময় রুবি আকতার ও নুর মোহাম্মদ রান্না ঘরে ঘুমিয়েছিলো।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে হত্যা মামলার আসামী দেলোয়ারকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে টাকাসহ একটি ম্যানিবাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগটিতে জাতীয় পরিচয়পত্রও রয়েছে।

এদিকে জোড়া হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান এবং সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হত্যাকান্ডের স্থানটি ঘিরে ফেলে সিআইডি। বুধবার, দুপুর দুইটায় মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন- গভীর রাতে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে।