লকডাউনের প্রভাব পড়েনি গ্রামাঞ্চলে: এলাকায় ঈদের আমেজ!

মাহাবুবুর রহমান •

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কক্সবাজার শহরাঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেললেও প্রভাব ফেলতে পারেনি গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মাঝে।

গতকাল ১ জুলাই কক্সবাজার শহরের বেশির ভাগ প্রধান সড়ক সহ উপজেলা গুলোর প্রধান ষ্টেশন গুলোতে প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে বেশ সাড়া ফেলেছে লকডাউন।

তবে জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের মানুষ ঠিকই বেরিয়ে পড়েছিল ঘর থেকে এমনকি বেশির ভাগ মানুষ মাক্স পড়েনি বরং আগের মত চুটিয়ে চায়ের দোকানে বা পাড়া মহল¯œায় আড্ডা দিয়ে সময় কাটিয়েছে বলে জানা গেছে। তাই গ্রামাঞ্চলে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সচেতন মহল।

১ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টার সময় খুরুশকুল ডেইলপাড়া এলাকার নজির আহামদের কাছে স্থানীয় পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে লকডাউনের কোন প্রভাব নেই। বরং এলাকায় গতকাল অপহরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনার বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি কৌতুহল ছিল তাই আগের চেয়ে বেশি মানুষ রাস্তা বা চায়ের দোকানে দেখা যাচ্ছে।
তিনি জানান শতকরা ২% লোকের মুখেও মাস্ক নেই।

একই সময়ে খুরুশকুল মনুপাড়া এলাকার রুবেল নামের এক তরুন ব্যবসায়ি এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, অতীতেও লকডাউন গ্রামাঞ্চলের মানুষকে প্রভাব ফেলতে পারেনি এখনো একই পরিস্থিতি। মানুষ দিব্বি চায়ের দোকানে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় আড্ডা দিয়ে কথা বার্তা বলে সময় কাটাচ্ছে। আর যে যার প্রয়োজন মত কাজ করছে বরং শহরে লকডাউনের কারণে অনেক মানুষ কক্সবাজার শহর থেকে কয়েক দিনের জন্য গ্রামে চলে এসেছে পরিবার পরিজন নিয়ে। তারাও বেশ আরামে সময় কাটাচ্ছে হাটবাজারে।

খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, সরকার যতই চাপাচাপি করুক মানুষ নিজ থেকে সচেতন না হলে কেউ কিছুই করতে পারবেনা। এটা সত্যি গ্রামের মানুষ এখনো করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেকটা উদাসিন। তারা অধিকাংশই মাস্ক পড়তেও আগ্রহী নয়।

পিএমখালী নুর মোহাম্মদ চৌধুরী বাজার এলাকার রশিদ আহমদ নামের এক ব্যবসায়িকে ফোন দিয়ে লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনারা কেমন আছেন বলেন ? সেখানে কোন সমস্যা হলে এখানে চলে আসেন, এখানে কোন লকডাউন নাই। মানুষ আগের চেয়ে বেশি বের হয়েছে সবাই যে যার মত সময় কাটাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাস্ক গ্রামের মানুষকে টাকা দিলেও পড়াতে পারবেনা। এখানে কেউ মাস্ক পড়েনা।

একই এলাকার হাফেজ মিজানুর রহমানকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ ধর্ম থেকে যত দূরে চলে যাবে বিভিন্ন মহামারি ততই মানুষকে ঘিরে ধরবে তাই ধর্মীয় নিয়ম কানুন মেনে চললে করোনা ভাইরাস কিছুই করতে পারবেনা।

তিনি ও বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে লকডাউনের কোন প্রভাব নেই। পিএমখালীর ইউপি সদস্য নুরুল হুদা বলেন, করোনা ভাইরাসকে গ্রামের মানুষ এখনো অবহেলা করে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের বুঝানো যায়না। তারা কেউ সচেতন নয়। আর বর্তমান লকডাউনের প্রভাব গ্রামে পড়ছেনা এটা সত্য।

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পর্যটন এলাকার ইনানীর ব্যবসায়ি আবদু সালামের কাছে এলাকার পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরে লকডাউন থাকায় বেশির ভাগ মানুষ ঘরে আছে কেউ তেমন এলাকা ছেলে বের হয়নি। এমনকি উখিয়া ষ্টেশনেও যায়নি তাই এলাকার রাস্তায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে অনেকে দীর্ঘ দিন পরে দেখা হওয়াতে কুলাকুলিও করছে। এলাকার দোকান গুলো এখন বেশ জমজমাট।

ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া এলাকার ব্যবসায়ি হাফেজুর রহমান বলেন, এখানে যুবকরা সবাই রাস্তায়, বয়স্করা যে যার কাজে আছে, তবে বেশির ভাগ বাজারে হাটে মাঠে অলস সময় পার করছে। আর বৃষ্টি হওয়াতে রাস্তার অবস্থা ভাল না। তবুও মানুষ কিন্তু করোনা ভাইরাস বা লকডাউনের কারণে কেউ সচেতন নয় বরং সবাই যে যার খেয়াল খুশি মত সময় কাটাচ্ছে মেলামেশা করছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সরকার জনগনের জন্য আন্তরিক কিন্তু জনগন মহামারী বিষয়ে আন্তরিক নয়। সরকার চাইলে সব কিছু খুলে দিতে পারতো। কিন্তু জনগনের কথা চিন্তা করে কঠোর লকডাউন দিয়েছে। কিন্তু গ্রামের মানুষ সেটা বুঝতে চায়না। তাই গ্রামে প্রশাসনের অভিযান জোরদার করার দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, প্রথম দিন প্রশাসন, সেনাবাহিনি, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি সবাই মাঠে ছিল এখন থেকে গ্রামাঞ্চলেও নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। তবে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।