কক্সবাজারে ঐতিহ্যবাহী গায়েবী মসজিদ: ৪০০ বছরেও ইতিহাস অজানা

আরফাতুল মজিদ •


মসজিদটি আয়তনে খুব ছোট। এর উত্তর পাশে রয়েছে একটি বিশাল দিঘি। মসজিদটির ভেতরে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা ২৩ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা ১৪ ফুট। মসজিদের বাহিরে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ৩৪ ফুট আর পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ফুট। মসজিদের সামনে তথা পূর্ব দিকে পাঁচ ফুট বা ছয় ফুটের একটি বারান্দা ছিল। তার সামনে ছিল খোলা সাহান বা উঠান।

মসজিদের মূল পিলার বা স্তম্ভ চারটি। মসজিদের একটি মাত্র দরজা। দরজার উচ্চতা পাঁচ ফুট। জানালা রয়েছে দুটি। জানালার উচ্চতা সাড়ে চার ফুট, প্রস্থ তিন ফুেটর মতো। বর্তমানে মসজিদের ফ্লোরটি পাঁচ থেকে ছয় ফুট ভরাট হয়ে গেছে। মসজিদের ছাদের উপর রয়েছে পাশাপাশি তিনটি গম্বুজ। মসজিদের ফ্লোরে বসানো হয়েছে টাইলস। ফলে কত নিচে মূল ফ্লোর রয়েছে তা বলা মুশকিল। ঐতিহাসিক একটি মসজিদের চিত্র এটি।

কক্সবাজার শহরের ভিতরে প্রাচীন এই মসজিদের অবস্থান। কক্সবাজার বাস টার্মিনালের উত্তরে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় ধান ক্ষেতের মাঝখানে গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। তবে মসজিদটি অনেকের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচিত। অনেকেই বলে সাচী মসজিদ। আবার অনেকেই মোঘল আমলের মসজিদ, গায়েবী মসজিদ ও পোটকা মসজিদ নামেও পরিচিত। কিন্তু মসজিদ আসলেই কোন আমলে বা কে তৈরি করেছিল তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। এমনকি কত বছর আগের মসজিদ তাও সঠিক তথ্য নেই। বর্তমানে এটি সাচী চৌধুরী মসজিদ হিসেবে নাম রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের তথ্য সেবায় বলা হচ্ছে, ১৬০০-১৭০০ খৃষ্টাব্দে শাহসুজার আমলে একটি মসজিদ তৈরি হয়েছিল। এটি চৌধুরী পাড়া মসজিদ বা আজগবি মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদ কমিটির সভাপতি মাস্টার গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসলে মসজিদ কে তৈরি করেছিল এর সঠিক তথ্য বা ইতিহাস কেউ জানে না। এমনকি কত বছর আগে তাও জানা নেই। অনেকেই বলে এই মসজিদের বয়স সর্বনিম্ন ২০০ বছর অথবা সর্বোচ্চ ৬০০ বছর । বেশির ভাগ ৪০০ বছর উল্লেখ করা হয়।

কক্সবাজারের ইতিহাস নামের একটি বইয়ের তথ্য অনুসারে- সাচী চৌধুরী মসজিদটির নির্মাণ শৈলী মোগল আমলের আদলে হলেও মসজিদটি মোগল আমলে নির্মিত হয়নি। গ্রামের আদি পুরুষ সাচী চৌধুরী ১৮৬১ খিস্টাব্দের দিকে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সাচী চৌধুরীর আদি নিবাস চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

১৮৫৪ খিস্টাব্দে কক্সবাজার মহকুমায় উন্নীত হওয়ার পরেই সাচী চেীধুরী কক্সবাজারে আগমন করেন এবং বর্তমানের (পূর্বের ঝিলংজা ইউনিয়ন) চৌধুরী পাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। মসজিদ কমিটির লোকজন বলেন, মূল মসজিদের পূর্বে সেখানে বারান্দা ছিল বর্তমানে সেখানে নতুন করে মসজিদ বাড়ানো হয়েছে। প্রায় সাত কাতার মতো বারান্দার জায়গাটি এখন দ্বিতল করা হয়েছে নামাজের জন্য। এছাড়া মসজিদের উত্তরপাশে রয়েছে ফ্লোর করা খোলা জায়গা। যেখানে প্রায় ১০০ জন মতো নামাজ আদায় করতে পারে।